আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার কারণে বুধবার (৭ অক্টোবর) সোনা ও রুপার দাম কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে তাকিয়ে আছেন। সুদের হার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান কী, তা স্পষ্ট হলে ভবিষ্যতে সোনার বাজার কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে বুধবার সোনার দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১২২ দশমিক ৭৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো সোনার দামের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
নাগা ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ওয়ালবাউমের মতে, সোনার বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার পরিবর্তে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাই বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত সোনার বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত ডলার শক্তিশালী হয় এবং তখন ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনার আকর্ষণ কমে যায়। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের বাজারের পরিবর্তনও মূল্যবান ধাতুর দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা গেছে। বুধবার রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬৩৮ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে ৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৪৫ ডলারে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪০ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম এখনো তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।
দেশের বাজারে রুপার দামও নির্ধারিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬৮৩ টাকায়।
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার বর্তমান ওঠানামা মূলত ডলার, সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বাজারের দিক আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

