হারিকেন আইজাইয়াস যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর মেক্সিকো উপসাগরের দিকে এগিয়ে আসায় সেখানে তেল উৎপাদন বড় আকারে বন্ধ হয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। সপ্তাহের হিসাবেও দাম বাড়ার পথে রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৪ সেন্ট বা ০.৪২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৬ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯১.৮৫ ডলার।
রয়টার্স জানায়, তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমায় অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল, অর্থাৎ ৬২.৯ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ ছিল। উৎপাদন কমলে সরবরাহ কমে, ফলে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়।
লেনদেনের শুরুর দিকে অবশ্য দাম কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ফলপ্রসূ” হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক চীন গোল্ডেন উইক ছুটির বিরতির পর পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি আবার শুরু করতে যাচ্ছে বলে রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। বিশ্লেষক তামাস ভার্গার মতে, এ দুই খবর দামকে নিচের দিকে টেনেছে।
ট্রাম্প ডিজেল নিয়ে একটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা কী, তা বলেননি। ফেডারেল গ্যাসোলিন কর স্থগিতের কথাও তিনি ভাবছেন।
এ সপ্তাহে তেলের বাজার অস্থির ছিল। কারণ উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি যেত। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইরানি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব তেহরান পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে কিছু ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক ও ১৭টি জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে গ্যাসোলিন, জেট ফুয়েল ও বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

