রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে রাশিয়ার তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বাজারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিমূল্য কমেছে। গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট তেলের দাম ১ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৩ ডলার ৩৫ সেন্টে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও নিম্নমুখী ছিল। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার ৩০ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে এর দাম দাঁড়ায় ৯০ ডলার ৫৫ সেন্টে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা বাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধ হলে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন কমতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রাপ্যতা বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও পরিবহন অঞ্চলে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দর এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা দামের ওপর চাপ তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই প্রভাব পুরোপুরি প্রশমিত করতে পারছে না।
আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতা কতটা কার্যকর হয়, রাশিয়ার তেল সরবরাহ বাস্তবে কতটা বাড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাময়িক পতন দেখা গেলেও জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা এখনো প্রবল। সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ও যুদ্ধজনিত ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্যই আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

