দেশে বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তার মতে, বর্তমানে বিদ্যমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট করহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে ভিয়েতনামের মতো করপোরেট করহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু করের হার নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা। এ কারণে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে বাধার মুখে পড়ছেন। নীতি ও করব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন।
বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রপ্তানি খাতসহ শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
কর প্রশাসন আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও ঝুঁকিভিত্তিক অডিট চালু করা গেলে কর আদায়ের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হয়রানিও কমবে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, দেশে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

