তিন বছর আগেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি ও ঋণচাপে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নীত করে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশটির এই অগ্রযাত্রাকে অনেকেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় জায়গা করে নেয়। তবে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ শ্রেণিবিন্যাসে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।
বরং বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে। আগামী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা ধরে রাখার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু বিশেষ সুবিধা পায়। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি সুবিধা, বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার এবং তুলনামূলক সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বজায় থাকে। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ সময় এলডিসি সুবিধা ধরে রাখার কৌশল কি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে, নাকি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে?
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হয় স্বাধীনতার পরের দিনগুলোর দিকে। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার স্বাধীন বাংলাদেশকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ বা আন্তর্জাতিক তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।
তৎকালীন বাস্তবতায় এমন নেতিবাচক মূল্যায়নের পেছনে কিছু কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ছিল। স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি। মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে বছরে প্রয়োজন হতো প্রায় দেড় কোটি টন খাদ্যশস্য। কিন্তু দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টন। ফলে প্রায় ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য বিদেশি সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হতো।
শুধু খাদ্য ঘাটতিই নয়, সেই সময় বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানির সক্ষমতাও ছিল সীমিত। ফলে স্বাধীনতার পরের বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে হতাশাজনক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। কৃষি উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। এখন দেশের সামনে বড় প্রশ্ন হলো—উন্নয়নের এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, নাকি বিদ্যমান সুবিধা ধরে রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।
১৯৭১ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব অর্থনীতির দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত—এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার কাঠামো চালু করে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হওয়া ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের পর ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
তৎকালীন বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সুবিধাগুলো বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক সহায়তা, সহজ শর্তের ঋণ এবং বাণিজ্যিক সুবিধা দেশের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে—এমন বিবেচনা থেকেই এই মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
তবে স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের পর বাংলাদেশ এক দশকের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় পেছনে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জিত হয়নি।
সুবিধার বেড়াজালে আটকে থাকা এলডিসি পরিচয়:
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের আমলেই স্বল্পোন্নত দেশের সুযোগ-সুবিধা ধরে রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। বৈদেশিক অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সুবিধার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় এলডিসি মর্যাদা অনেক সময় অর্থনৈতিক সুবিধার উৎস হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিশেষ করে বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণনির্ভর উন্নয়ন মডেল থেকে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সেই নির্ভরতা অব্যাহত থেকেছে। স্বাধীনতার পর যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদাননির্ভরতা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা কমার পরিবর্তে বিভিন্ন পর্যায়ে বেড়েছে।
অন্যদিকে, ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, অপচয় এবং দুর্নীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিও বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। আশির দশকে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা চামচা পুঁজিবাদের সঙ্গে তুলনা করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। ওই বছরের ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো চামচা পুঁজিবাদের পর্যায় অতিক্রম করে ‘ক্লেপটোক্রেসি’ বা চৌর্যতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
এই বিতর্ক বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—শুধু আন্তর্জাতিক সুবিধা ধরে রাখা নয়, বরং অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতা দূর করে উৎপাদনশীলতা, সুশাসন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোই কি এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত? কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের বিশেষ সুবিধা সাময়িকভাবে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের শক্তি নির্ভর করে নিজস্ব সক্ষমতা, দক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর।
১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচনী গণতন্ত্রের যাত্রা শুরুর পর অনেকের প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে দুর্নীতি কমবে এবং সুশাসনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিভিন্ন সরকারের আমলেও দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। একসময় আন্তর্জাতিক দুর্নীতির সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অর্থনীতির অগ্রগতির পথে এখনো বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং পুঁজির অপব্যবহার। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের সাধারণ মানুষের কঠোর পরিশ্রম, উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ এবং শ্রমজীবী মানুষের অবদানে অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে।
এই অগ্রগতির ফল হিসেবেই ২০১৮ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করে। বর্তমানে দেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুনে মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের অংশ থাকা পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ভারতের মাথাপিছু জিডিপির চেয়েও বেশি।
শুধু আয় বৃদ্ধিই নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার আরও কিছু সূচকেও পরিবর্তন এসেছে। মোট জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ এখন ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। স্বাধীনতার পর যে দেশ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেই বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে অনেক এগিয়েছে। খাদ্যশস্য, সবজি ও মাছ উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও দেশের সামনে কিছু মৌলিক সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও গত দুই বছরে এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, খেলাপি ঋণের বোঝা, অর্থ পাচার এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের মধ্যে সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর আয় পুনর্বণ্টন ব্যবস্থাও এখনো গড়ে ওঠেনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অর্জনকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে প্রয়োজন আত্মনির্ভরতার মানসিকতা। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটলে স্বল্পোন্নত দেশের কিছু বিশেষ সুবিধা কমে যাবে—এটি সত্য। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
এর উদাহরণ হতে পারে ভিয়েতনাম। দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৯৭৫ সালে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিল। সে সময় ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের তুলনায়ও কম ছিল। তবু দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধার ওপর নির্ভর না করে অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে এগিয়ে যায়।
১৯৮৬ সালে ভিয়েতনাম ‘দোই মোই’ সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে বাজারমুখী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করে। এর পর থেকে দেশটি দ্রুত শিল্পায়ন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে সফল হয়েছে। বর্তমানে আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার ডলারের বেশি এবং দেশটির বার্ষিক রপ্তানি আয় ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে দেশটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও করছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা ধরে রাখতে হলে এখন প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি। শুধু আন্তর্জাতিক সুবিধার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সক্ষমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা ধরে রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, নাকি উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতার পথে এগিয়ে যাবে? অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য বোঝা নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
- ড. মইনুল ইসলাম: একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ; সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

