চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এনবিআরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এটি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছে এনবিআর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এনবিআরের হিসাবে, সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে জুন শেষে মোট আদায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত (১১ মাস ২০ দিন) শুল্ক ও কর বাবদ আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে আদায় হয় ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছিল। তবে এখনো চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এনবিআরের প্রত্যাশা, চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বিদায়ী অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলে সেটি হবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব সংগ্রহের রেকর্ড।
একই দিনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে দেশের শিল্প ও বস্ত্র খাতের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত সংলাপ চলছে। কোন খাতে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়েই মূলত আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিটিএমএর পক্ষ থেকে একাধিক দাবি ও সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে বৈঠকেই সমাধানের পথ বের হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো সরকার পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করবে।
ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেসব সমস্যা এখনো রয়েছে, সেগুলোও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে।

