বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রায় সরাসরি অবদান রাখার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
চলতি ২০২৬ সালে প্রবাসী আয়ে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি হুন্ডির মতো অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক আর্থিক চ্যানেলের উপস্থিতি এখনো বড় উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের আগস্টের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে ২৩৪ কোটি ডলারের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে দেশে মোট প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে। অর্থাৎ বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি শক্তিশালী গতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই প্রবাহের পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে হলে বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি হুন্ডির চাহিদা ও নেটওয়ার্ক—দুই দিকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক ধরনের বৈদেশিক আর্থিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি রিজার্ভের ওপর চাপ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং প্রবাসীদের আয়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতিও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের উপার্জনের পুরোটা আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আসছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কারণ বৈধ চ্যানেলের পাশাপাশি হুন্ডির একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দ্রুত নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া, তুলনামূলক আকর্ষণীয় বিনিময় হার এবং কম আনুষ্ঠানিকতার কারণে কিছু প্রবাসী এখনো এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হন।
হুন্ডিকে শুধু অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এটি অনেক ক্ষেত্রে অর্থপাচার, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি সমান্তরাল আর্থিক নেটওয়ার্ক। এর টিকে থাকার পেছনে যেমন অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সেবার সহজলভ্যতা ও মানুষের আচরণগত কিছু বাস্তবতা।
প্রথমত, বিনিময় হারের ব্যবধান। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় হুন্ডি বা কার্ব মার্কেটে কোনো কোনো সময়ে বেশি বিনিময় হার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সামান্য ব্যবধানও প্রবাসী কর্মীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে ‘আরও কিছু টাকা পাওয়া যাবে’—এই প্রত্যাশা তাকে বৈধ চ্যানেল থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রক্রিয়াগত জটিলতা। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কেওয়াইসি, পরিচয় যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও গ্রাহকের কাছে তা কখনো কখনো সময়সাপেক্ষ বা জটিল মনে হয়। বিপরীতে হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্থানীয় এজেন্টের ওপর নির্ভর করে দ্রুত লেনদেনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
তৃতীয়ত, দূরত্ব ও সময়ের সীমাবদ্ধতা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির কর্মস্থল থেকে ব্যাংক বা অনুমোদিত অর্থ স্থানান্তর কেন্দ্র দূরে হতে পারে। কাজের ব্যস্ততা, ছুটির দিন কিংবা ব্যাংকের সময়সূচিও তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি বা এজেন্টের মাধ্যমে সহজে অর্থ পাঠানোর সুযোগ তাই তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
চতুর্থত, হুন্ডির চাহিদার আরেকটি বড় উৎস দেশের অভ্যন্তরেই। আমদানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিং বা ওভার-ইনভয়েসিংসহ বিভিন্ন অবৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বিদেশে অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন তৈরি হলে হুন্ডির বৈদেশিক মুদ্রা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রবাসী আয় এবং অবৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন—দুই দিকের চাহিদা ও সরবরাহ একে অপরকে শক্তিশালী করে।
হুন্ডির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ অবশ্যই জোরদার করতে হবে। তবে কেবল অভিযান, শাস্তি বা নগদ প্রণোদনার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ হুন্ডির একটি বড় সুবিধা হলো—এটি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও সহজ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে।
সুতরাং বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যেখানে একজন প্রবাসী অর্থ পাঠানোর সময় মনে করবেন—বৈধ চ্যানেলই সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং লাভজনক বিকল্প। এক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রবাসীরা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর পর চান, তা যেন দ্রুততম সময়ে দেশে স্বজনদের ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল ওয়ালেটে পৌঁছে যায়। তাই অর্থ পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে বা একই দিনের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার অপারেটর (MTO) এবং দেশীয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে হবে। লেনদেনের গতি ও দক্ষতা বাড়ানো না গেলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল হুন্ডির দ্রুত ও সহজ সেবার সঙ্গে কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।
প্রবাসী কর্মীকে যেন বিদেশে বসেই নিরাপদভাবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং বা অনুমোদিত রেমিট্যান্স সেবা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পরিচয় যাচাই, কেওয়াইসি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে নিরাপত্তা বজায় রেখেও গ্রাহকের সময় নষ্ট না হয়।
রেমিট্যান্স পাঠানোর পর সুবিধাভোগী কখন টাকা পাবেন, কত টাকা পাবেন এবং কোনো চার্জ কাটা হয়েছে কি না—এসব তথ্য গ্রাহকের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছানো জরুরি। লেনদেনের প্রতিটি ধাপে তাৎক্ষণিক এসএমএস, অ্যাপ নোটিফিকেশন বা ডিজিটাল রসিদ দেওয়া হলে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়বে।
অফশোর ব্যাংকিং ও বিশেষ হিসাবের ব্যবহার বাড়ানো। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় প্রবাসী ও অনাবাসীদের জন্য বিশেষ হিসাবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নন-রেসিডেন্ট কনভার্টেবল টাকা অ্যাকাউন্টসহ এসব সুবিধা প্রবাসীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে। শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না; বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছে এসব সেবার ব্যবহারিক সুবিধা সহজ ভাষায় পৌঁছে দিতে হবে।
হুন্ডির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আধুনিক ফিনটেক সেবা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর এবং অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউজের মধ্যে প্রযুক্তিগত সংযোগ যত বাড়বে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানো তত সহজ হবে।
বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাগুলোকে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাভোগীরাও দ্রুত অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এই সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, কেওয়াইসি এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের বিধান কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। একই ব্যক্তি বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্বাভাবিক লেনদেন, সন্দেহজনক হিসাবের গতিবিধি কিংবা বাণিজ্যিক লেনদেনের অস্বাভাবিক ধরন বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুন্ডি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব।
হুন্ডি প্রতিরোধে প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার। বৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময়মূল্য যেন বাস্তব বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীরা যেন শুধু প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে ন্যায্য বাজারদর ও উন্নত সেবার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নেন।
দ্বিতীয়ত, লেনদেন ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর ও দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়িয়ে কম খরচে দ্রুত অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, মোবাইলভিত্তিক রেমিট্যান্স সেবা আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রবাসী যেন বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর সময় এবং দেশে সুবিধাভোগী যেন অর্থ গ্রহণের সময়—দুই পর্যায়েই সহজ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চতুর্থত, হুন্ডির চাহিদার উৎস বন্ধ করতে হবে। আন্ডার-ইনভয়েসিং, ওভার-ইনভয়েসিং কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক কৌশলের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু হুন্ডি গ্রহণকারী প্রবাসীকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালে সমস্যার মূল কাঠামো অক্ষত থেকে যাবে।
পঞ্চমত, বিদেশে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশি দূতাবাস, কনস্যুলেট, ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউজ এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের সমন্বয়ে প্রবাসীদের জানাতে হবে—বৈধ পথে অর্থ পাঠালে কী সুবিধা পাওয়া যায়, কোন সেবা সবচেয়ে দ্রুত, কীভাবে কম খরচে টাকা পাঠানো যায় এবং হুন্ডিতে প্রতারণা বা অর্থ হারানোর ঝুঁকি কোথায়?
প্রবাসী আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব নয়; এটি বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশির শ্রম, ত্যাগ ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অর্থনৈতিক প্রতিফলন। ২০২৬ সালে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে স্থায়ী শক্তিতে রূপ দিতে হলে বৈধ চ্যানেলের বাইরে থাকা অর্থপ্রবাহের কারণগুলোও দূর করতে হবে।
হুন্ডি বন্ধের জন্য তাই কেবল নিষেধাজ্ঞা বা অভিযান নয়, প্রয়োজন সেবার প্রতিযোগিতা। ব্যাংকিং চ্যানেলকে হতে হবে দ্রুততর, বিনিময় হার হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক, লেনদেন ব্যয় হতে হবে কম, ডিজিটাল অনবোর্ডিং হতে হবে সহজ এবং সুবিধাভোগীর হাতে অর্থ পৌঁছাতে হবে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে। পাশাপাশি ফিনটেক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা বিশ্লেষণের মতো আধুনিক প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে কাজে লাগাতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রবাসীকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে শুধু উৎসাহিত নয়, এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে বৈধ চ্যানেলই হবে সবচেয়ে সহজ, দ্রুত, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক পথ। তখন হুন্ডির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইনশৃঙ্খলার অভিযান থাকবে না; এটি পরিণত হবে একটি উন্নত, আধুনিক ও প্রবাসীবান্ধব আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগে। এর সুফল শুধু রেমিট্যান্স প্রবাহে নয়—দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, ব্যাংকিং খাত, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায়ও প্রতিফলিত হবে ।

