নিয়ন্ত্রক বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে সোনালী সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পুঁজিবাজারে লেনদেনের সদস্যপদ বাতিল করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে আর ব্রোকার হিসেবে লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় সোনালী সিকিউরিটিজের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বা ট্রেক বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ট্রেক বিধিমালার শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন বাতিল করা হয়। এতে করে ব্রোকারেজ কার্যক্রমে তাদের সব ধরনের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে গেল।
এই সিদ্ধান্তের পর বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যারা সোনালী সিকিউরিটিজের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করতেন, তাদের নিজ নিজ হিসাব যাচাই করে নগদ অর্থ ও শেয়ারের ব্যালান্স নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো অসম্পূর্ণ লেনদেন থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগ জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। কোনো বিনিয়োগকারীর যদি প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা থাকে, তাহলে ২১ মের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে সরাসরি শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনলাইন কমপ্লেইন ব্যবস্থার মাধ্যমেও।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। সার্বিকভাবে, এই পদক্ষেপ শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

