কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কেন্দ্রিক চিপের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করেছে। এই অর্জনের ফলে কোম্পানিটি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বুধবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে তা প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে কোম্পানিটির মোট বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই মাইলফলক স্পর্শের মাধ্যমে স্যামসাং এখন এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই অবস্থানে পৌঁছাল। এর আগে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি এই অর্জন করেছিল।
শুধু স্যামসাং নয়, একই খাতে থাকা আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারমূল্যও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দুই প্রতিষ্ঠানের একযোগে উত্থানের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপি লেনদেনের শুরুতেই ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাত হাজার পয়েন্টের উপরে উঠে যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে এআই অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিযোগিতা বাড়ায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি ও প্রসেসিং চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতাই স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো কোম্পানির বাজারমূল্য ও মুনাফায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক প্রান্তিক প্রতিবেদনে স্যামসাং জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৫০ শতাংশ বেড়ে ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটি কোম্পানির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মুনাফা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত এক বছরে এআই খাতের দ্রুত বিস্তার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সময়ে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে, যা বিনিয়োগ বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং উন্নত প্রসেসিং সিস্টেম নির্মাণের কাজ দ্রুত বাড়ছে। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মেমোরি চিপের শক্তিশালী চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির এই বিস্তার শুধু স্যামসাং নয়, পুরো বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকেই নতুন প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বাজারের দ্রুত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।

