দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিন করপোরেট খাতে নেতৃত্ব দেওয়া মাসুদ খানের এই নিয়োগকে পুঁজিবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে একই দিনে সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেন। তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন।
একই দিনে চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ঘটনায় পুঁজিবাজার অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিএসইসি আগামী দিনে বাজারের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এমন প্রেক্ষাপটে বিএসইসির শীর্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চেয়ারম্যানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী করা।
এখন দেখার বিষয়, নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে বিএসইসি পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

