দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চার কার্যদিবসে ব্লক মার্কেটে মোট ১৭৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
এই লেনদেনের বড় অংশই হয়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে। শীর্ষ ১০ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা মোট ব্লক লেনদেনের বড় অংশ দখল করেছে।
সপ্তাহজুড়ে ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারে। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির বাজারদর দাঁড়ায় ৬৫ টাকা ৩০ পয়সা।
দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে এর শেয়ারদর ছিল ১৩৬ টাকা।
তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারে। ব্যাংকটির ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৮০ পয়সা।
তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর ছিল ৯০ টাকা ৯০ পয়সা।
এ ছাড়া সিটি ইন্স্যুরেন্সের ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানি দুটির শেয়ারদর যথাক্রমে ১০৫ টাকা ৪০ পয়সা ও ১০৪ টাকা ৯০ পয়সায় অবস্থান করে।
খাদ্য খাতের কোম্পানি ফাইন ফুডসের ৭ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫৭৮ টাকা ৬০ পয়সা।
অন্যদিকে, এনসিসি ব্যাংকের ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকা ৫০ পয়সা।
তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের ৫ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সপ্তাহ শেষে এর বাজারদর দাঁড়ায় ৭৫ টাকা।
ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ারও ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪১৬ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। গত সপ্তাহের লেনদেন চিত্রে ব্যাংক, বীমা, ওষুধ, বস্ত্র ও খাদ্য খাতের কোম্পানিগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে, যা বাজারে নির্বাচিত শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

