শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মধ্যে বড় অঙ্কের শেয়ার উপহার হিসেবে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই শেয়ার স্থানান্তরের ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই শেয়ার হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় অঙ্কের শেয়ার পেয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা নূরুল আমিন। তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ শেয়ার গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আমিন উপহার হিসেবে দিয়েছেন ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার। এছাড়া ছেলে মোহাম্মদ আদিব আমিনের কাছ থেকে পেয়েছেন আরও ১২ লাখ শেয়ার। উভয়েই ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ারধারী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে উপহার হিসেবে শেয়ার গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেয়ার স্থানান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটিতে নূরুল আমিনের ব্যক্তিগত শেয়ার ধারণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজুর রহমানও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক শেয়ার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়ের কাছ থেকে মোট ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫০টি শেয়ার উপহার হিসেবে তাঁর হিসাবে স্থানান্তর করা হবে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার হস্তান্তর করছেন ছেলে ওমর নাঈম, যিনি বাবাকে ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৮১৫টি শেয়ার দিচ্ছেন। এছাড়া ওমর খৈয়াম ও ওমর কাইয়ুম প্রত্যেকে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৮২১টি করে শেয়ার হস্তান্তর করবেন। ছেলে শেখ ওমর ফারুক ও মেয়ে নার্গিস মাহমুদা উভয়েই ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭২টি করে শেয়ার দিচ্ছেন। ফিরোজুর রহমানের স্ত্রী মরজিনা বেগমও তাঁর স্বামীর অনুকূলে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৯টি শেয়ার স্থানান্তর করবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব শেয়ার শেয়ারবাজারের সাধারণ কেনাবেচা পদ্ধতির বাইরে উপহার হিসেবে স্থানান্তর করা হবে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির কোনো চাপ তৈরি হবে না।
এদিকে ঢাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তা আবদুল ওয়াহেদ তাঁর মালিকানাধীন ৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭৫টি শেয়ার স্ত্রী জাহেদা ওয়াহেদ খানের নামে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্ত্রী বর্তমানে ব্যাংকটির একজন সাধারণ শেয়ারধারী। শেয়ারগুলোও উপহার হিসেবে স্থানান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো বাজার লেনদেন সম্পন্ন হবে না।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মধ্যে পারিবারিক শেয়ার স্থানান্তর সাধারণত মালিকানা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ার সংখ্যা বা বাজারমূল্যে সরাসরি কোনো পরিবর্তন আসে না। তবে উদ্যোক্তা, পরিচালক ও সাধারণ শেয়ারধারীদের মধ্যে মালিকানার অনুপাত পরিবর্তিত হতে পারে।
শেয়ারবাজারের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, উদ্যোক্তা পরিচালকরা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করতে পারেন অথবা তাঁদের কাছ থেকে শেয়ার গ্রহণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে আগাম অবহিত করা এবং নির্ধারিত নিয়মকানুন অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মেনেই শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক পর্যায়ে শেয়ার স্থানান্তর করপোরেট মালিকানা কাঠামোর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও বড় অঙ্কের শেয়ার হস্তান্তরের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়। কারণ এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বার্তা যেতে পারে।

