টানা ১০ কার্যদিবস ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় থাকার পর দেশের শেয়ারবাজারে সোমবার (৮ জুন) নেতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবগুলো প্রধান সূচক কমে গেছে।
বাজারের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার তালিকায় চলে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ আরও বাড়তে থাকে। দিনশেষে দেখা যায়, বাজারজুড়ে দরপতনের প্রবণতাই ছিল প্রধান ধারা, ফলে সূচকগুলো ঋণাত্মক অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দিনশেষে ডিএসইতে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৭টির দাম কমেছে এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বাজারে কম সংখ্যক শেয়ারের দরবৃদ্ধি হলেও সামগ্রিকভাবে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।
প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে ৭ পয়েন্ট এবং এটি অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ফলে টানা উত্থানের পর বাজারে একটি স্বাভাবিক সংশোধনের ধারা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ৭২ কোটি টাকার বেশি। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেন ছিল প্রায় ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বগতির পর অনেক শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে সূচকে পতন দেখা গেলেও এটি বাজারের স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৪ পয়েন্ট কমেছে। মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এই বাজারে লেনদেনও কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় কম।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ উত্থানের পর শেয়ারবাজারে এদিন একটি স্বাভাবিক চাপ ও সংশোধনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আচরণ, মুনাফা গ্রহণ এবং বাজারের স্বাভাবিক চক্র—সব মিলিয়ে সাময়িক এই পতনকে বাজার সংশোধনের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

