পুঁজিবাজারের আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কোম্পানির সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থতা এবং লিস্টিং ফি বকেয়া রাখার ঘটনায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা বিএসইসির এক আদেশে জানানো হয়, কোম্পানিটিকে বকেয়া নগদ লভ্যাংশ ও লিস্টিং ফি বাবদ মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় কমিশনের ১০১৩তম সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ফরচুন সুজ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ঘোষিত প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এখনো বিনিয়োগকারীদের কাছে বিতরণ করা হয়নি।
এছাড়া কোম্পানিটি ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পূর্ববর্তী তিন বছরের প্রায় ১৮ লাখ ২৯ হাজার টাকার লিস্টিং ফিও পরিশোধ করেনি বলে কমিশনের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিমানার মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের শাস্তি দেওয়া হয়েছে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে। তাকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমান, পরিচালক মো. আমানুর রহমান, পরিচালক রবিউল ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক মো. খসরুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাবেক কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বর্তমান কোম্পানি সচিব মো. নাজমুল হোসেনকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে কমিশন।
বিএসইসি আদেশে বলা হয়েছে, নির্দেশনা জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ কমিশনে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ঘোষিত লভ্যাংশ সময়মতো পরিশোধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ফি পরিশোধ বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ ধরনের বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারে জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং করপোরেট শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে।

