সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে আবারও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন—দুটিতেই পতন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রধান সূচকও কিছু সময় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর বিক্রির চাপ বাড়তে থাকলে একের পর এক কোম্পানির শেয়ার দর কমতে শুরু করে। এর প্রভাবে সূচকও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং দিনশেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকে।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫টির দর বেড়েছে, ১৯২টির দর কমেছে এবং ৫৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ভালো মৌলভিত্তির ৩০টি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
লেনদেনেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বুধবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও দিনের লেনদেনে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও সার্বিকভাবে সূচক নিম্নমুখী ছিল। এদিন সিএসইতে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১০৪টির দর বেড়েছে, ১০৩টির কমেছে এবং ৩৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেন শেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬১ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সঙ্গে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের শুরুতে ক্রয়চাপ থাকলেও পরে বিক্রির প্রবণতা বাড়ায় সূচক নিম্নমুখী হয়। একই সঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

