সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় শেয়ারবাজারেই লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। তিনটি সূচকের একযোগে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেনদেনের পরিমাণেও ছিল স্পষ্ট অগ্রগতি। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ২৭২ কোটি টাকা বেড়েছে।
দিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১১৬টির দর কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, দর কমা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দর বেড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যা বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও দিনটি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯১টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এ তথ্যও বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেনদেনের হিসাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন ছিল ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, সেখানে একদিনেই প্রায় ২২ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, সূচকের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি এবং লেনদেন বৃদ্ধির প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে বাজারে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

