পুঁজিবাজারে লেনদেনে গতি ও তারল্য বাড়াতে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে শিগগিরই ডে নেটিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি ভালো কোম্পানির শেয়ারে এ সুবিধা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডে নেটিং চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সব কোম্পানির শেয়ারে এ সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শুরুতে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ও কমিয়ে দুই কার্যদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার পরদিনই তা বিক্রির সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন ও ভালো কোম্পানি আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারবে এবং যোগ্য কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে।
বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি দমনে উচ্চ আদালতে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মাসুদ খান। তার ভাষ্য, বর্তমানে বিএসইসির শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা উচ্চ আদালতে গেলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। বিশেষ বেঞ্চ গঠন হলে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বাজার তদারকি ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনায় দেওয়ানি মামলার পরিবর্তে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে কমিশন।

