শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’-এর মূলধন আরও শক্তিশালী করা, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে এসিআই এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২৩তম সভায় বিনিয়োগ প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসিআই লজিস্টিকসের ইস্যুকৃত ৭০ লাখ কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার কিনবে এসিআই। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৭০০ কোটি টাকা।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে পুরো বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগের ফলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এসব শেয়ার সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিনিয়োগ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ আধুনিক খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক ‘স্বপ্ন’ পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি সুপারশপ, এক্সপ্রেস আউটলেট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন আউটলেট চালু, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সংগঠিত খুচরা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নগরায়ণ, পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সুপারশপ খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে এসিআইর নতুন বিনিয়োগ ‘স্বপ্ন’-এর সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে আরও গতিশীল করতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত মূলধনের মাধ্যমে নতুন শাখা স্থাপন, প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করা এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

