শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে একই দিনে ২০২৫ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত পৃথক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে দুই কোম্পানি তাদের পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পৃথক পরিচালনা পর্ষদ সভায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য আগামী ১২ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১ টাকা ২১ পয়সা। ফলে বছর ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৬৯ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফলেও মুনাফায় কিছুটা চাপ দেখা গেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৫১ পয়সা। অর্থাৎ প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে মুনাফা প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সা।
অন্যদিকে, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ‘নো ডিভিডেন্ড’সহ অন্যান্য প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৬ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণফোনের মুনাফা কিছুটা কমলেও ধারাবাহিকভাবে উচ্চ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা কোম্পানিটির শক্তিশালী নগদ প্রবাহ ও আর্থিক সক্ষমতার প্রতিফলন। অন্যদিকে পদ্মা ইসলামী লাইফের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

