শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে। যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ সামান্য কমেছে, তবে সার্বিকভাবে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার উন্নতির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত কোম্পানিটির ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান ছিল ৩ টাকা ১২ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ১৪ পয়সা, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা, যেখানে ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে লোকসান ছিল ১ টাকা ৪৭ পয়সা। অর্থাৎ প্রান্তিক হিসেবে লোকসান ২ পয়সা, বা প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, বিশ্লেষকদের মতে তা কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয় না। কারণ ছয় মাসের সম্মিলিত ফলাফল এখনো নেতিবাচক এবং প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক লোকসানের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৩৬ টাকা ৮৪ পয়সা। সাধারণত ঋণাত্মক নিট সম্পদ মূল্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি দীর্ঘদিনের লোকসান ও মূলধন ঘাটতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর আগেও ২০২৫ অর্থবছরে বড় ধরনের লোকসানের তথ্য প্রকাশ করেছিল বিআইএফসি। ওই বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ২০২৫ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের নগদ বা শেয়ার লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিক লোকসান এবং ঋণাত্মক নিট সম্পদ মূল্য থেকে বেরিয়ে আসতে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পুনর্গঠন, সম্পদের গুণগত মান উন্নয়ন এবং আয় বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় কোম্পানিটির আর্থিক চাপ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

