দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই কমেছে মূল্যসূচক, আর দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি সংখ্যক কোম্পানি। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন থেকে খোয়া গেছে প্রায় তিনশ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক দিক হলো, সপ্তাহ শেষে প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একশ বাষট্টিটির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে দুইশ আটটির। এ ছাড়া সতেরোটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে সাত লাখ সাত হাজার ছয়শ পনেরো কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় সাত লাখ সাত হাজার নয়শ চৌদ্দ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূলধন কমেছে প্রায় তিনশ কোটি টাকা।
মূলধন কমলেও সূচকের চিত্র ছিল ভিন্ন। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে প্রায় তেইশ পয়েন্ট, শতাংশের হিসাবে যা শূন্য দশমিক ঊনচল্লিশ শতাংশ—যদিও তার আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল প্রায় পঁয়ত্রিশ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক অবশ্য এই সপ্তাহেও নিম্নমুখী থেকেছে, কমেছে প্রায় সাড়ে তিন পয়েন্ট। অন্যদিকে নির্বাচিত ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটি সামান্য পরিমাণে বেড়েছে।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় নয়শ সাতানব্বই কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় পৌনে দুইশ কোটি টাকা কম—শতাংশের হিসাবে কমেছে পনেরো শতাংশের বেশি।
টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে একটি বহুল আলোচিত শিল্প গোষ্ঠীর শেয়ারে, যার দৈনিক গড় লেনদেন ছিল মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশের বেশি। এর পরের অবস্থানে ছিল একটি প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান, আর তৃতীয় স্থানে ছিল একটি টেক্সটাইল কোম্পানি। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল আরও কয়েকটি টেক্সটাইল, ব্যাংকিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ও বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান।
সামগ্রিকভাবে সপ্তাহের বাজার চিত্র বলছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব এখনো বিরাজ করছে—সূচক সামান্য বাড়লেও মূলধন সংকোচন ও লেনদেনের ধীরগতি বাজারে স্থিতিশীল আস্থার অভাবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

