সপ্তাহের শুরু থেকেই নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের পর আজ সোমবার দ্বিতীয় কার্যদিবসেও বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে বাজার, যার মধ্য দিয়ে টানা চার কার্যদিবস ধরে পতনের ধারা অব্যাহত রইল।
দিনের লেনদেনে দুই শেয়ারবাজারেই—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দরপতনের শিকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দাম বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে কমেছে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণও।
তবে দিনের শুরুটা মোটেও এমন হতাশাজনক ছিল না। লেনদেন শুরুর পরপরই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে দেখা যায়, ফলে সূচকও প্রাথমিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর একধরনের আশাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু দুপুর সাড়ে বারোটার পর থেকে পুরো চিত্র পাল্টে যায়। শুরু হয় ঢালাও দরপতন, যা লেনদেনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের শুরুর ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা যায়নি, বরং বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।
ঢাকার বাজারে দিন শেষে সব খাত মিলিয়ে মাত্র চুয়ান্নটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে তিনশতাধিক প্রতিষ্ঠানের, আর সামান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। ভালো মুনাফা ও উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও দরপতনের চিত্র প্রকট—এই শ্রেণিতেও দাম বৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠান এবং লভ্যাংশবিহীন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই রকম হতাশাজনক।
ব্যাপক দরপতনের প্রভাবে ঢাকার বাজারের প্রধান মূল্যসূচক প্রায় পঁয়তাল্লিশ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার আটশ পয়েন্টের ঘরে নেমে এসেছে। নির্বাচিত ভালো মানের ত্রিশ কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকও কমেছে কয়েক পয়েন্ট, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকেও দেখা গেছে পতনের ধারা।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণও। আজকের লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা কম হয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
আজকের লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যেখানে পঁয়ত্রিশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে একটি স্টিল খাতের প্রতিষ্ঠান এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে একটি বহুল আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বস্ত্র, খাদ্য ও নির্মাণসামগ্রী খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারেও একই ধরনের নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে একশ এগারো পয়েন্টের বেশি, আর লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও দরপতনের সংখ্যা ছিল দাম বৃদ্ধির তুলনায় বেশ কয়েক গুণ বেশি। তবে ঢাকার বিপরীতে চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে চলা এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটকেই প্রতিফলিত করছে। তাঁদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—উভয় কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, যদি না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাজারে আস্থা ফেরাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

