শেয়ারবাজারে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাইশটি ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সমন্বিত গ্রাহক হিসাব, নিট সম্পদমূল্য এবং গ্রাহকদের অর্থ-শেয়ার সংরক্ষণে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে—কোনো কোনোটিতে শতাধিক কোটি টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের লেনদেনও একই কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা এখনো শনাক্ত করা যাচ্ছে না, আবার কোনো কোনোটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে দুই-একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আরেকটি প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়লেও সেটির লেনদেন এখনো চালু রয়েছে, যা নিয়েও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে দ্রুত তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফরেনসিক নিরীক্ষা পরিচালনা, দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ ও বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে ব্রোকারেজ খাতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। সংস্থাটি আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই ব্রোকারেজ হাউজগুলো পরিদর্শনের জন্য বিশেষ অডিটর প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। কোথাও গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি, মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্রোকারেজ খাতে এমন ব্যাপক অনিয়মের ঘটনা দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও নড়বড়ে করে তুলতে পারে। তাঁদের মতে, শুধু লেনদেন বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়—দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

