দেশের শেয়ারবাজার যেন দরপতনের চক্র থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছে না। বুধবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসেও সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় টানা ছয় কার্যদিবস ধরে দরপতনের মধ্যে রইলো পুঁজিবাজার। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।
দিনের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যাওয়ায় সূচক নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। মধ্যবর্তী সময়ে সাময়িকভাবে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও লেনদেনের শেষভাগে ফের দরপতনের ধারায় ফিরে যায় বাজার। শেষ পর্যন্ত দাম কমার তালিকা বড় হয়ে দিন শেষ করে মূল সূচকও নিম্নমুখী থাকে।
দিন শেষে হিসাব করে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৮টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৬১টির দাম।
লভ্যাংশ বিবেচনায় শ্রেণিভিত্তিক চিত্রেও পতনের ছাপ স্পষ্ট। নিয়মিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮০টির দাম বাড়লেও কমেছে ১০৮টির, অপরিবর্তিত ১৯টি। তুলনামূলক কম লভ্যাংশদাতা মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৮টি। লভ্যাংশ না দেওয়ায় দুর্বল তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ৩৪টি। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ৫টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১৮টির, অপরিবর্তিত থেকেছে ১১টি।
দাম কমার তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৬৯ পয়েন্টে। এই নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছে মোট ১৩৩ পয়েন্ট। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে নেমেছে ২ হাজার ১৬১ পয়েন্টে। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে শরিয়াহভিত্তিক সূচকে—এটি প্রায় ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫১ পয়েন্টে।
সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেনের অঙ্কেও বড় সংকোচন দেখা গেছে। বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা কম। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন দৈনিক লেনদেনের রেকর্ড হলো ডিএসইতে।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি প্রকৌশল খাতের কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে, এরপর রয়েছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি বহুল আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় স্থান পেয়েছে অটোমোবাইল, বস্ত্র, স্টিল, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দর খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক ১৯ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৪টির দাম। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩ কোটি টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ বলছে, টানা ছয় কার্যদিবসের এই দরপতন ও লেনদেন সংকোচন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাবেরই প্রতিফলন। আস্থার এই ঘাটতি কাটিয়ে বাজার কবে আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরবে, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী কার্যদিবসগুলোর লেনদেন প্রবণতার ওপর।

