সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ইতিবাচক ধারায় শুরু হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারের লেনদেন। রাজধানীর প্রধান শেয়ারবাজার এবং বন্দরনগরীর শেয়ারবাজার—উভয় জায়গাতেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে দিন শুরু করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মাথায়, অর্থাৎ সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রধান শেয়ারবাজারের সাধারণ সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার সাতশ ছিয়াশি পয়েন্টে দাঁড়ায়। তবে একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক তিন পয়েন্ট এবং শীর্ষ ত্রিশ কোম্পানির সূচক পাঁচ পয়েন্ট করে কমে যথাক্রমে এগারোশ চুয়ান্ন ও একুশশ চৌষট্টি পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এই সময়সীমার মধ্যে মোট একশ পাঁচ কোটি সাত লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর বাজারচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুইশ ঊনিশটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে তিপ্পান্নটি কোম্পানির দর কমেছে এবং একশটি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। এই সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট, বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বিক্রেতাদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি ছিল।
সূচকের গতিপথ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দিনের শুরুতেই বেশ চাঞ্চল্যকর ওঠানামা লক্ষ করা গেছে। লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই সাধারণ সূচক দশ পয়েন্ট বেড়ে যায়, তবে এর কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ সকাল দশটা দশ মিনিটের দিকে সূচক আগের অবস্থান থেকে তিন পয়েন্ট নিচে নেমে আসে। এই স্বল্পমেয়াদি পতন কাটিয়ে সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে, এবং লেনদেন শুরুর কুড়ি মিনিটের মাথায় তা আগের দিনের চেয়ে পনেরো পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার সাতশ চুরাশি পয়েন্টে পৌঁছায়।
অন্যদিকে বন্দরনগরীর শেয়ারবাজারেও একই দিনের একই সময়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেখানকার মূল সূচক পঁচিশ পয়েন্ট বেড়ে পনেরো হাজার পাঁচশ বিশ পয়েন্টে অবস্থান করে, এবং এরপরও সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত থাকতে দেখা যায়। এই বাজারে সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত মোট বাহাত্তর লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এখানে বিশটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, দশটির দর কমেছে এবং ছয়টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সামগ্রিকভাবে দুই বাজারের পরিসংখ্যান পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, উভয় স্থানেই দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানির তুলনায় বেশ কয়েক গুণ বেশি, যা সামগ্রিক বাজার-মনোভাবের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুর এই প্রবণতা সবসময় পুরো কার্যদিবসের প্রতিফলন নাও হতে পারে, কারণ লেনদেনের সময় যত গড়ায়, সূচকের গতিপথে পরিবর্তন আসাটাও পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

