টানা ছয় কার্যদিবস ধরে চলা দরপতনের ধারা থেকে অবশেষে বেরিয়ে এসেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও, লেনদেনের অঙ্কে দেখা গেছে একেবারে বিপরীত চিত্র—এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ নেমে এসেছে গত সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
আগ্রহের বিষয় হলো, দুই শেয়ারবাজারের চিত্র এদিন একেবারেই ভিন্ন পথে হেঁটেছে। ঢাকার বাজারে যেখানে দাম বাড়ার তালিকা তুলনামূলক বড় ছিল, সেখানে চট্টগ্রামের বাজারে দাম কমার তালিকাতেই ছিল বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান, ফলে সেখানকার প্রধান সূচক নিম্নমুখী হয়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে।
ঢাকার বাজারে দিনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতির দিকে থাকলেও সূচক তবু ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়েই লেনদেন শুরু করে। এরপর লেনদেন যত এগিয়েছে, ততই বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা জোরালো হয়েছে, ফলে দিনের শেষে দাম বৃদ্ধির তালিকা বড় থেকে আরও বড় হয়ে ওঠে এবং সূচকও বাড়তির দিকেই স্থির থাকে।
দিন শেষের হিসাবে দেখা যায়, ঢাকার বাজারে মোট একশ বিরানব্বইটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে একশ সাতাশটির দাম কমেছে এবং একাত্তরটির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।
বাজারের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে দেখলে, নিয়মিত ভালো লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই দাম বেড়েছে—একশ ঊনিশটির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে বাহান্নটির দাম কমেছে এবং সাতাশটি অপরিবর্তিত ছিল। তুলনামূলক কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবশ্য চিত্র উল্টো—একত্রিশটির দাম বাড়লেও সাঁইত্রিশটির দাম কমেছে।
দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়ায় দুর্বল শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিয়াল্লিশটির দাম বেড়েছে, আটত্রিশটির দাম কমেছে এবং সমান সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে সতেরোটির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে মাত্র দুটির দাম কমেছে।
দাম বাড়ার তালিকা তুলনামূলক বড় হওয়ায় ঢাকার প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ষোলো পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার সাতশ ছিয়াশি পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বাছাই করা তিরিশটি ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটি সামান্য কমে দুই হাজার একশ বাষট্টি পয়েন্টে নেমে এসেছে, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচক চার পয়েন্ট বেড়ে এগারোশ ছাপ্পান্ন পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক বাড়লেও ঢাকার বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ছয়শ বাহাত্তর কোটি টাকার কাছাকাছি, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল প্রায় সাতশ তেত্রিশ কোটি টাকা—অর্থাৎ একদিনেই লেনদেন কমেছে প্রায় একষট্টি কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুর পর থেকে এটিই ঢাকার বাজারে সর্বনিম্ন দৈনিক লেনদেন।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যেখানে বিশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে একটি ওষুধ কোম্পানি এবং একটি বস্ত্র প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, উভয়েরই লেনদেন হয়েছে ষোলো থেকে সতেরো কোটি টাকার ঘরে। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বিমা, ব্যাংক, অটোমোবাইল, বস্ত্র ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের একাধিক কোম্পানি।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারের সার্বিক সূচক দুই পয়েন্ট কমেছে। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় দুইশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিয়াত্তরটির দাম বেড়েছে, বিপরীতে সাতাশিটির দাম কমেছে এবং তেত্রিশটি অপরিবর্তিত থেকেছে। এই বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় উনিশ কোটি টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল সাঁইত্রিশ কোটি টাকার বেশি—অর্থাৎ এখানেও লেনদেন কমেছে প্রায় অর্ধেকে।

