সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। রবিবার সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই বাজারেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে দিন শুরু করে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ঢাকার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দশ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এই গতি সেখানেই থেমে থাকেনি। দশ মিনিট পর সূচক আরও পাঁচ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, আর কুড়ি মিনিট পার হতেই সূচকটি আগের দিনের তুলনায় বিশ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার আটশ ছয় পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ায়।
তবে সকাল সাড়ে দশটার দিকে এসে বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসে। এই সময় পর্যন্ত ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে সাত পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার সাতশ বিরানব্বই পয়েন্টে অবস্থান করছিল। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক এবং ডিএসই-৩০ সূচক—দুটিতেই এক পয়েন্ট করে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা যথাক্রমে এগারোশ সাতান্ন ও একুশশ বাষট্টি পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে।
এই সময়সীমার মধ্যে ঢাকার বাজারে মোট শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে প্রায় একশ চৌদ্দ কোটি পনেরো লাখ টাকার। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে একশ ছাপ্পান্নটির, কমেছে একশ তেইশটির, আর দাম অপরিবর্তিত থেকেছে আটানব্বইটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের।
সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া দশটি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল সার্প ইন্ডাস্ট্রি, রানার অটোমোবাইলস, সায়হাম টেক্সটাইল, ফার কেমিক্যাল, সেনা ইন্স্যুরেন্স, শমরিতা হসপিটাল, ডোমিনেজ স্টিল, এমএল ডায়িং, বেক্সিমকো লিমিটেড এবং টেকনো ড্রাগস।
একই সময়ে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সকাল সাড়ে দশটায় সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচক পনেরো পয়েন্ট বেড়ে পনেরো হাজার পাঁচশ ছয় পয়েন্টে পৌঁছায়, এবং এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা যায়। ওই সময় পর্যন্ত এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় সত্তর লাখ টাকা। এখানে দশটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে এবং চারটি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বাজার-সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ, দিনের শুরুতে এই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকলে তা সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাজারের প্রকৃত গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য দিনের বাকি সময়ের লেনদেন পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

