দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবস জুড়েই দেখা গেছে টানা নিম্নমুখী প্রবণতা। সপ্তাহ শেষে এক্সচেঞ্জটির প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে দুই শতাংশের বেশি, আর একই ধরনের নেতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেছে অন্য সূচকগুলোতেও। এই পতনের ঢেউ গিয়ে লেগেছে দেশের অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৬ পয়েন্টে, যেখানে আগের সপ্তাহ শেষে এই সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে। একইভাবে নির্বাচিত কোম্পানির সূচকও ২৮ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৩৫ পয়েন্টে নেমেছে, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকটি ২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৩ পয়েন্টে।
লেনদেনের চিত্রেও এই পতনের প্রতিফলন স্পষ্ট। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হলেও এর মধ্যে মাত্র ৩৫টির দর বেড়েছে, বিপরীতে দর কমেছে ৩৪২টির—অর্থাৎ লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশেরই দরপতন হয়েছে। বাকি ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল, আর ২৩টির কোনো লেনদেনই হয়নি। সূচকের এই পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও শিল্প খাতের কোম্পানির শেয়ার দরপতন।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখল করে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। এরপরের অবস্থানে ছিল যথাক্রমে সাধারণ বীমা, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল এবং ব্যাংক খাত। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া বস্ত্র খাতেই আবার সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে—প্রায় পাঁচ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে গত সপ্তাহে বাজারের প্রতিটি খাতেই বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন ছিল নেতিবাচক, যার মধ্যে সাধারণ বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এখানকার সার্বিক সূচক প্রায় দুই শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্ট। অন্য একটি সূচকও প্রায় পৌনে দুই শতাংশ কমে নেমে এসেছে নয় হাজার ২৫৮ পয়েন্টে।
লেনদেনের পরিমাণেও এই বাজারে দেখা গেছে দুর্বলতার ছাপ। গত সপ্তাহে এই এক্সচেঞ্জে মোট প্রায় ৪৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৪৯টির, আর দর কমেছে ২২৯টির—অর্থাৎ এখানেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম নিম্নমুখী ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পুঁজিবাজারেই এই ব্যাপক ও ব্যাপ্ত দরপতন সামগ্রিক বিনিয়োগকারী আস্থার একটি নেতিবাচক প্রতিফলন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাতেই সবচেয়ে বড় দরপতন হওয়ার বিষয়টি স্বল্পমেয়াদে বাজারের প্রতি সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

