আগের কার্যদিবসের বড় ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারল না দেশের পুঁজিবাজার। সোমবারও দরপতনের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে লেনদেন। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সার্বিক লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমে গেছে।
দিনশেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই জায়গাতেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নিম্নমুখী থেকেছে উভয় বাজারের প্রধান মূল্যসূচকও।
বাজারের এই ধারাবাহিক পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়া স্পষ্টতই বিক্রির চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বাজারের নেতিবাচক প্রবণতাকেই আরও জোরালো করেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই সূচক ধারাবাহিকভাবে নিচের দিকে নামছে। মাসের শুরুর দিকে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে থাকলেও এখন তা নেমে এসেছে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই নিম্নমুখী প্রবণতা এবং একের পর এক কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার বদলে অনেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কৌশল নিচ্ছেন, যার প্রভাবে বাজারে ক্রয়চাপের তুলনায় বিক্রির চাপ বেশি থাকছে এবং সামগ্রিক লেনদেনও প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না।
সোমবারের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের শুরুতে বাজার ছিল ইতিবাচক—বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ায় সূচকও প্রথম দুই ঘণ্টা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমতে শুরু করে, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দিনশেষে দরপতনের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়ে যায় এবং সবকটি মূল্যসূচকই নিম্নমুখী প্রবণতায় থেকে লেনদেন শেষ হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ১৯২টির দাম কমেছে এবং ৬৯টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। ভালো মানের বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও একই চিত্র—৬৫টির দাম বেড়েছে বিপরীতে ১০৮টির কমেছে। মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ৩২টির দাম বেড়েছে, সমান সংখ্যক অর্থাৎ ৩২টির দাম কমেছে।
লভ্যাংশ না দেওয়া দুর্বল বা জেড গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৫২টিরই দাম কমেছে। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ১৬টির দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে সাতটির।
সার্বিক এই দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে। শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ কমেছে আট পয়েন্ট, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে তিন পয়েন্ট।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে সার্বিক লেনদেনও। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা—অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে একটি টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার। এ ছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল ওষুধ, বস্ত্র, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠেরই শেয়ারদর কমেছে, ফলে বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচকও নিম্নমুখী থেকেছে। তবে সিএসইতে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে।

