দীর্ঘদিনের টানা দরপতন কাটিয়ে অবশেষে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, যার প্রভাবে উভয় বাজারের প্রধান সূচক এবং লেনদেনের পরিমাণ—দুটিতেই দেখা গেছে উল্লম্ফন।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৫ পয়েন্ট এবং নির্বাচিত ব্লু-চিপ কোম্পানিভিত্তিক সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয় উত্থান দেখা গেছে। এদিন ঢাকার বাজারে মোট প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা—অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া মোট কোম্পানির মধ্যে তিনশর বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে পঞ্চাশটি কোম্পানির এবং প্রায় চল্লিশটির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এখানকার প্রধান সূচক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে সাড়ে নয় হাজারের কাছাকাছি পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক মূল্যসূচক ৬০ পয়েন্ট এবং শীর্ষ ত্রিশ কোম্পানিভিত্তিক সূচক ৩৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো উল্লম্ফন ঘটেছে। এদিন এখানে প্রায় সাড়ে একান্ন কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র প্রায় সতেরো কোটি টাকা—অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। এদিন এই বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩৮টির এবং ১৬টির দর ছিল স্থিতিশীল।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের টানা দরপতনের পর এই ধরনের ব্যাপক ও সমন্বিত ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে। তবে একদিনের উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করার আগে আগামী কয়েক কার্যদিবসের বাজার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। বিশেষত লেনদেনের পরিমাণে এত বড় লাফ কতটা টেকসই থাকে এবং তা নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের প্রতিফলন নাকি সাময়িক প্রতিক্রিয়া, তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

