সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস আজ বুধবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শুরুতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। বাজারের প্রধান সূচক এবং শরিয়াহভিত্তিক সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও একই সময়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০-এ।
বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত প্রধান সূচক প্রায় সাড়ে ৮ পয়েন্ট বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার ছয়শ পয়েন্টের ঘরে অবস্থান করছিল, যা শতাংশের হিসাবে সামান্য প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচকও প্রায় পৌনে তিন পয়েন্ট বেড়ে এগারোশ পয়েন্টের বেশি অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এর বিপরীতে ডিএস-৩০ সূচক সামান্য কমে দুই হাজার একশ পয়েন্টের ঘরে নেমে এসেছে।
লেনদেনের শুরুর এই সময়টাতে ডিএসইতে মোট প্রায় ৪৩ হাজারের বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে হাতবদল হয় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ৭৬ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট। এতে মোট লেনদেনের অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৬৪ কোটি টাকায়। এই সময়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় দুইশর কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, একশর বেশি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাজারে সকালের দিকে ক্রেতাদের একধরনের সক্রিয়তা থাকলেও তার প্রভাব সব সূচকে সমানভাবে পড়েনি। প্রধান সূচক ও শরিয়াহ সূচকের ঊর্ধ্বগতি ইতিবাচক আভাস দিলেও ডিএস-৩০ সূচকের পতন সামগ্রিক বাজারচিত্রে একধরনের অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মূলত বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের সাময়িক সতর্ক অবস্থানকে নির্দেশ করতে পারে।
রাজধানীর বাইরে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এই বাজারের সার্বিক সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে পনেরো হাজার একশ পঞ্চাশের ঘরে নেমে এসেছে। তবে সূচক নিম্নমুখী হলেও লেনদেন হওয়া মোট ৬৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ, অর্থাৎ ৪০টির শেয়ারদরই বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৪টির এবং বাকি কয়েকটির দরে কোনো হেরফের হয়নি। এই বাজারে সকালের দিকে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই বাজারেই মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও সূচকে তার পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটার পেছনে বড় মূলধনি বা সূচক-প্রভাবক কোম্পানিগুলোর দরপতনের ভূমিকা থাকতে পারে।

