দেশের দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সপ্তাহের শুরুতেই নিম্নমুখী হয়েছে শেয়ারবাজার। রোববার লেনদেনের শুরুতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা বাজারে নেতিবাচক চাপ তৈরি করে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কোথাও উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি বিকল্প ও তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এসব কারণে কোম্পানির উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে নেমে আসে।
একই সময়ে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএসও ছয় পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩১ পয়েন্টে অবস্থান করে।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও ছিল সীমিত। এ সময়ে ডিএসইতে মোট ১৬৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজারের সার্বিক চিত্র ছিল বেশ নেতিবাচক। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে ৭২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টি কোম্পানির শেয়ারদর।
প্রথম ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সাইহাম টেক্সটাইলের শেয়ারে। এ সময়ে কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেনের শুরুতে পতন দেখা গেছে। সকাল ১১টায় সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই চার পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে নেমে যায়। একই সময়ে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক সিএসসিএক্সও চার পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২৬০ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা বাড়ায় কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর সেই উদ্বেগই লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

