সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের দুই শেয়ারবাজারেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। দিনের শুরুতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বাজার নিম্নমুখী ধারায় ঢুকে পড়ে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এই ঊর্ধ্বগতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সকাল ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যেই সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে যায়, আর এরপর থেকেই বাজারে ক্রমাগত পতনের ধারা দেখা যায়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫২২ পয়েন্টে।
লেনদেন শুরুর ঠিক আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর সার্বিক চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫ হাজার ৫২৮ পয়েন্টে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১ হাজার১০৭ পয়েন্টে, আর বড় মূলধনি প্রতিষ্ঠানের সূচক ডিএসই-৩০ কমে যায় ১০ পয়েন্ট, যা নেমে আসে ২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে।
এই আধা ঘণ্টায় বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এদের মধ্যে মাত্র ৬০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৮টি কোম্পানির শেয়ারের, আর ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকেছে। অর্থাৎ, বাজারে দরপতনের প্রবণতাই ছিল সবচেয়ে প্রকট।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় শীর্ষে ছিল একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান, এরপর ধারাবাহিকভাবে ছিল দুটি বস্ত্র খাতের কোম্পানি, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, আরেকটি টেক্সটাইল কোম্পানি, একটি স্টিল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, একটি নিটিং প্রতিষ্ঠান, একটি আইসক্রিম প্রস্তুতকারী কোম্পানি, একটি বীমা প্রতিষ্ঠান এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি।
অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই দিনে সূচকের পতন লক্ষ করা গেছে। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর এই বাজারের প্রধান সূচক ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে। তবে ঢাকার বাজারের বিপরীত চিত্র দেখা যায় এখানে—এরপর থেকে সূচকটি ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।
চট্টগ্রামের বাজারে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট লেনদেন হয়েছে ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ফান্ড ইউনিট, যা ঢাকার তুলনায় অনেকটাই কম। এই সময়ে ১২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৩০টির, আর ৮টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সব মিলিয়ে দিনের প্রথম ভাগের চিত্র বলছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব এবং বিক্রির চাপ প্রধান বাজারে সূচক পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

