দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইনের তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার সংগঠনটির সভাপতির স্বাক্ষরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই সুপারিশ লিখিতভাবে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছেও।
সুপারিশে ডিবিএ বলেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব শেয়ার ফিরিয়ে নেওয়ার (বাইব্যাক) আইনি সুযোগ দেওয়া হলে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা বাড়বে। এই লক্ষ্যে শেয়ার বাইব্যাক সংক্রান্ত বিধিমালা তৈরি, তা বাস্তবায়ন, তদারকি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মার্জার ও অ্যাকুইজিশন কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিল ও দীর্ঘসূত্রী আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে এ সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষমতাও বিএসইসির হাতে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিবিএর যুক্তি হলো, পুঁজিবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিষয়ে বিএসইসিই মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ায় শেয়ার বাইব্যাক ও মার্জার-অ্যাকুইজিশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির এখতিয়ার কমিশনের হাতে থাকা প্রয়োজন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুততর হবে এবং তদারকি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংগঠনটি মনে করে।
সংগঠনটির ভাষ্য, এই বিষয়ে আধুনিক ও কার্যকর নিয়মকানুন তৈরি হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট পুনর্গঠন ও মূলধন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সহজতর হবে, যা একই সঙ্গে বাজারের গতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা—দুটোতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ডিবিএর প্রত্যাশা, পুঁজিবাজার আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত আইন সংশোধনীতে তাদের এই সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালু হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বাজারে মূল্য অস্থিরতার সময় নিজস্ব শেয়ার কিনে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারবে, যা উন্নত পুঁজিবাজারগুলোতে প্রচলিত একটি সাধারণ চর্চা। তবে এ ধরনের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি নির্ধারণও একইসঙ্গে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

