সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে দেখা গেছে ভিন্ন প্রবণতা। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন লেনদেনের পরিমাণ কমলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার পাঁচশ সাঁইত্রিশ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুটি সূচকের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে এবং ডিএসই-৩০ সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে এগারোশ দশ ও একুশশ তিন পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিন ডিএসইতে মোট পাঁচশ উনিশ কোটি সাতাত্তর লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ঊনসত্তর কোটি টাকা কম। এর আগের দিন এই এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ ছিল পাঁচশ নব্বই কোটি তেতাল্লিশ লাখ টাকা।
বুধবার ডিএসইতে মোট তিনশ সাতাশিটি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে একশ পঁয়ষট্টিটি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে একশ পঞ্চাশটির এবং অপরিবর্তিত ছিল বাহাত্তরটি কোম্পানির শেয়ার বা ইউনিটের দর।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ঊনষাট পয়েন্ট কমে চৌদ্দ হাজার আটশ আটষট্টি পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া একশ তিপ্পান্নটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে পঞ্চান্নটির, কমেছে তিয়াত্তরটির এবং অপরিবর্তিত ছিল পঁচিশটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
তবে সূচক কমলেও লেনদেনের অঙ্কে উল্টো চিত্র দেখা গেছে সিএসইতে। বুধবার এই বাজারে সাতাশি কোটি সাতাশ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় সাতষট্টি কোটি টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র বিশ কোটি ঊনচল্লিশ লাখ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেনের এই উল্লম্ফন বাজারে বিনিয়োগকারীদের সাময়িক আগ্রহ বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত দিতে পারে, যদিও দুই বাজারের সূচক ও লেনদেনের এই বৈপরীত্য সামগ্রিক পুঁজিবাজারে দিক নির্ধারণী কোনো স্পষ্ট প্রবণতার চেয়ে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

