সপ্তাহের সবশেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বন্দরনগরীর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই জায়গাতেই সূচক ছিল উর্ধ্বমুখী, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির আভাস দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বাজার দুটির তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক বিশ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে সূচকের এই উত্থান অব্যাহত থাকে। সকাল দশটা দশ মিনিট নাগাদ সূচকটি আরও আট পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, এবং লেনদেন শুরুর কুড়ি মিনিটের মাথায় তা আগের দিনের তুলনায় পঁয়ত্রিশ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার পাঁচশ তিয়াত্তর পয়েন্টে পৌঁছায়।
লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে দশটার দিকে দেখা যায়, ঢাকার বাজারের সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় তেত্রিশ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার পাঁচশ একাত্তর পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই সময়ে শরীয়াহভিত্তিক সূচকে পাঁচ পয়েন্ট এবং নির্বাচিত ভালো কোম্পানিগুলোর সূচকে সাত পয়েন্ট বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়, যা যথাক্রমে এগারোশ পনেরো ও একুশশ দশ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। এই আধা ঘণ্টায় মোট শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে চুয়াত্তর কোটি একষট্টি লাখ টাকার।
এই সময়সীমার মধ্যে যে কোম্পানিগুলোর শেয়ার হাতবদল হয়েছে, তার মধ্যে দুইশ উননব্বইটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল, বিপরীতে ত্রিশটি কোম্পানির দর কমেছে এবং বাহান্নটি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল।
একই সময়ে বন্দরনগরীর বাজারেও অনুরূপ ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ চট্টগ্রামের সার্বিক সূচক ষোলো পয়েন্ট বেড়ে চৌদ্দ হাজার আটশ পঁচাশি পয়েন্টে ওঠে, এবং এখানেও সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা যায়। এই বাজারে সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত মোট দুই কোটি একত্রিশ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এই সময়ে সতেরোটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, পাঁচটি কোম্পানির দর কমেছে এবং একটি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত থেকেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, দিনের শুরুতে এই ধরনের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি সূচক হতে পারে, যদিও পুরো কার্যদিবস শেষে চূড়ান্ত ফল কেমন হয় তা নিশ্চিত হতে বাকি সময়ের লেনদেনের গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখা জরুরি।

