প্রতিদিনের যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পর এবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে আধুনিক এই সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আরও ২২টি সংযোগস্থলে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে।
শাহবাগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও চালকেরা। তাদের মতে, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালুর পর যানবাহনগুলো নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়ছে। লাল সংকেত জ্বললে চালকেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাচ্ছেন এবং সবুজ সংকেত জ্বললে আবার চলাচল শুরু করছেন।
পথচারী ও চালকদের একজন বলেন, এখন সবাই সিগন্যাল অনুসরণ করছেন। লাল সংকেতের সময় সবাই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সবুজ সংকেত দিলে আবার চলতে শুরু করছেন। সরাসরি আইন প্রয়োগের পরিবর্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুফল পাওয়া যায়, শাহবাগে তার বাস্তব উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বিজয় সরণির ট্রাফিক পরিদর্শক সুজা চৌধুরী জানান, স্বয়ংক্রিয় নজরদারির কারণে চালকদের মধ্যেও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তারা আইন ভঙ্গ করলে মামলা হওয়ার এবং সেই মামলার কপি নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি জানেন। ফলে যানবাহন চালানোর সময় অনেকেই আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হচ্ছেন।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার সুফল পেতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করলেই রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করতে হলে সড়কে বৈধ যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহনের কার্যকর নম্বরপ্লেট থাকতে হবে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরায় সেটি শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ কিছু যানবাহনের নম্বরপ্লেটের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় পুলিশও যুক্ত রয়েছে। আইন ভঙ্গ শনাক্ত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো যানবাহন সড়কের নির্ধারিত আইন ভঙ্গ করলে সেটি শনাক্ত করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা করা হচ্ছে।
রাজধানীর যানজট কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

