টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি ও অতীত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
শনিবার সখীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত সরকারের শেষ দশ বছরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। তার মতে, এ কারণে দেশের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। তার ভাষায়, কোষাগার প্রায় শূন্য অবস্থায় ছিল এবং সীমিত সম্পদ নিয়ে সরকারকে কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষি খাতে প্রণোদনা এবং ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত।
অতীতের অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে দুর্ভিক্ষ ও সংকটের সময়ও জনগণ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উন্নয়ন সহায়তার অংশ হিসেবে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, নারীদের জন্য সেলাই মেশিন, কৃষকদের কৃষি উপকরণ, অসচ্ছল পরিবারের জন্য টিউবওয়েল এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ পাচার নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য জনমনে আলোচনার জন্ম দিলেও এর প্রকৃত পরিমাণ ও প্রভাব নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

