নিম্নআয়ের ১ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত পরিবারগুলোকে বিশেষ এলপিজি কার্ডের মাধ্যমে বাজারদরের ওঠানামা ছাড়াই নির্দিষ্ট মূল্যে গ্যাস কেনার সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি তিন মাসে একটি করে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারবে মাত্র ১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ চারটি সিলিন্ডার ভর্তুকি মূল্যে কেনার সুযোগ পাবে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্নআয়ের বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি রান্নায় তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাও কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা এবং সরকারের আমদানি করা এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ডিভিশন বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড, বিতরণব্যবস্থা এবং সরবরাহ চেইন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রকল্পটির একটি আনুষ্ঠানিক সারসংক্ষেপও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, প্রকল্পটি প্রকৃতভাবে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে পারলে তা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, সহায়তাটি যদি সত্যিকার অর্থে সংকটে থাকা পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, তাহলে এর মাধ্যমে স্পষ্ট সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে এবং তাদের তাৎক্ষণিক ব্যয়ের চাপও কিছুটা কমবে।
তার মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এবং বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি কেনার ব্যয়ে সহায়তা দেওয়া সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তবে এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সুবিধা বণ্টনে অনিয়ম ও অপচয় ঠেকানো এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগোষ্ঠীর বাইরে কেউ যেন ভর্তুকির সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলপিজি কার্ডভিত্তিক এই পাইলট কর্মসূচি সফল হলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রান্নার জ্বালানি আরও সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে এটি বড় একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিণত হতে পারে।

