দেশের ব্যাংকিং খাতে তুলনামূলক কম বয়সে নেতৃত্বে আসার ধারাবাহিকতায় এবার কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হচ্ছেন ৪৫ বছর বয়সী কিমিয়া সাদাত। আগামী ১৪ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন, যা তাকে দেশের ব্যাংক খাতে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ এমডিদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এমডি হতে ন্যূনতম ৪৫ বছর বয়স এবং অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কিমিয়া সাদাত এই শর্ত পূরণ করে দায়িত্ব নিচ্ছেন। এর আগে তিনি একই ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত এক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
দীর্ঘ ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে তার অভিজ্ঞতা বহুমাত্রিক। এইচএসবিসি বাংলাদেশ, দ্য সিটি ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংক-এর মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি মেঘনা ব্যাংক-এ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার নেতৃত্বে কমিউনিটি ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে এবং খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়েও প্রতিষ্ঠানটি এগিয়েছে। বর্তমানে মোট লেনদেনের বড় একটি অংশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। নতুন গ্রাহক হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া ক্যাশলেস পদ্ধতিতে ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধসহ বেশ কিছু নতুন সেবা চালু হয়েছে তার সময়েই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কিমিয়া সাদাত চারটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন—সুশাসন জোরদার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি। আগামী কয়েক বছরে নতুন শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি ব্যাংকটিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, ভোক্তা ঋণ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আগে থেকেই কম বয়সে এমডি হওয়ার নজির রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ বিভিন্ন ব্যাংকে ৪০-এর ঘরে থেকেই অনেকেই এই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সফলতারও পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব ব্যাংকিং খাতে নতুন চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

