উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন ছোট অঙ্কের নিয়মিত জমা দিয়েই বড় অঙ্ক গড়ে তোলার সুযোগ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি। নতুন একটি আমানত স্কিমে মাসে ৫ হাজার টাকা জমা রাখলে ১০ বছর শেষে মুনাফাসহ পাওয়া যাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
ব্যাংকটির চালু করা ‘রূপালী ডিপোজিট পেনশন স্কিম-৩’ (আরডিপিএস-৩) নামের এই সঞ্চয় প্রকল্পে গ্রাহকরা মাসে ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারবেন। স্কিমটির মেয়াদ ৩, ৫ ও ১০ বছর এবং সুদের হার ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারিত।
এই স্কিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশি মুনাফা পাওয়া। উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ১০ বছর জমা রাখেন, তাহলে মোট জমা হবে ৬ লাখ টাকা। মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে ১০ লাখ ৭ হাজার ২৮৮ টাকা। অর্থাৎ মুনাফা হিসেবে পাওয়া যাবে প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি।
কম অঙ্কের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে মুনাফা পাওয়া সম্ভব। মাসে ৩০০ টাকা ১০ বছর জমা রাখলে পাওয়া যাবে প্রায় ৬০ হাজার টাকার বেশি। আবার মাসে ১ হাজার টাকা জমা রাখলে মেয়াদ শেষে মিলবে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি। এভাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ যত বাড়বে, মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণও তত বাড়বে।
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য মাসের যেকোনো দিন কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। চাইলে ছয় মাসের কিস্তি একসঙ্গে অগ্রিম জমা দেওয়াও সম্ভব, যদিও এতে অতিরিক্ত মুনাফা যোগ হয় না।
এ স্কিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ঋণ সুবিধা। অন্তত ছয়টি কিস্তি জমা দেওয়ার পর গ্রাহকরা তাদের জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সুদের হার হবে স্কিমের নির্ধারিত হারের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেও কেউ টাকা তুলতে চাইলে সে সুযোগ রয়েছে, তবে তখন মুনাফার হার কমে যাবে। কত বছর পর টাকা তোলা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে সুদের হার ৬.৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়তে পারে।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ এই স্কিমে হিসাব খুলতে পারবেন এবং একজন গ্রাহক একাধিক হিসাবও রাখতে পারবেন। হিসাব খোলার জন্য প্রয়োজন হবে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত কিছু কাগজপত্র। পাশাপাশি একটি সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব রাখতে হবে, যেখান থেকে প্রতি মাসে কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে এবং মেয়াদ শেষে জমাকৃত অর্থও সেখানে যোগ হবে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যেও এই স্কিমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সহজ কিস্তি, প্রতিযোগিতামূলক মুনাফা এবং ঋণ সুবিধার কারণে এটি সীমিত আয়ের মানুষের জন্য একটি কার্যকর সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

