বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগের মালিকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ রাখা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে আমানতকারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। এতে অনেক আমানতকারী অর্থ তুলে নেওয়ার চাপ বাড়াচ্ছেন, কেউ কেউ কেবল মূল অর্থ ফেরতের দাবিও করছেন।
এই পরিস্থিতিতে একীভূত ব্যাংকগুলোর প্রশাসকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিতভাবে পরিষ্কার নীতি ব্যাখ্যা চেয়েছেন। গত রোববার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাত সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এসব ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সংশোধিত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে একটি ধারা যুক্ত হওয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধের মাধ্যমে আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়েই বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসকরা জানিয়েছেন, এই ধোঁয়াশার কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে। আগের কিছু সিদ্ধান্তে আস্থা ফিরলেও নতুন আইনগত ব্যাখ্যা নিয়ে আবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে নতুন আমানত প্রবাহ কমে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে চাইছেন। কেউ কেউ আগে ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ মেনে কেবল মূল টাকা ফেরত চাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসকরা দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও স্পষ্ট নির্দেশনার দাবি জানিয়েছেন।বৈঠকে তারা আরও জানান, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এসব ব্যাংকের মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে বড় চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে মূলধন ঘাটতিও বিপুল পরিমাণে বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগের বিভিন্ন সময় এসব ব্যাংককে বড় অঙ্কের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের একটি অংশকে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূত ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট নীতি না থাকলে আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে। এতে শুধু আমানতকারীরাই নয়, পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নীতিগত স্পষ্টতা, পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

