দেশের ছয়টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি প্রক্রিয়া আইনসম্মত হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ব্যাংকে নিয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পরীক্ষার আয়োজন এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে ও পরে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে ব্যাপকসংখ্যক কর্মী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। তাদের অভিযোগ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত ব্যাংকের বিধি মেনেই নেওয়া হয়েছে।
এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পুরো পরিস্থিতি যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ চিত্র তুলে ধরতেই তদন্ত কমিটি কাজ করছে। জানা গেছে, কমিটি কোনো সুপারিশ দেবে না; বরং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে।
একটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য অংশের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এতে অংশ নেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে নিয়োগ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে। আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কর্মী নিয়োগ ও বহাল রাখা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র সামনে এলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা আরও জোরদার হতে পারে।

