আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দীর্ঘদিন দেশের বাজারে তা সমন্বয় না করায় ভর্তুকির চাপ বাড়ছিল। সেই চাপ কমাতে গত ১৮ এপ্রিল রাত থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। নতুন দামে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য সমন্বয় করা হলেও আঞ্চলিক তুলনায় এখনও ডিজেলের দাম বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম রয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক হিসাবে প্রায় ৯৪ সেন্টের সমান। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এই মূল্য এখনও তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন শহরে ডিজেলের দাম রাজ্যভেদে ভিন্ন হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা বাংলাদেশের সমান বা বেশি। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ডিজেলের দাম প্রায় সমপর্যায়ে থাকলেও মুম্বাই, কলকাতা, হায়দ্রাবাদ বা বিশাখাপত্তমে তা এক ডলার বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চিত্র আরও ভিন্ন। ভুটানে ডিজেলের দাম প্রায় ১.০৫ ডলার, মালদ্বীপে ১.১৪ ডলার এবং পাকিস্তানে ১.২৭ ডলারে পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কা ও নেপালে এ জ্বালানির দাম আরও বেশি, যেখানে নেপালে সর্বোচ্চ প্রায় ১.৪৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম রাখার পেছনে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অকটেন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়া হয়।
তবে দাম বাড়ানোর প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে পড়তে শুরু করেছে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ খরচ বেড়ে কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাস ও নৌযান ভাড়াও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় বাড়াবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে অকটেনের দাম ডিজেলের তুলনায় কম হলেও বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশে অকটেনের দাম ডিজেলের তুলনায় বেশি, যদিও আমদানি খরচ তুলনামূলক কম। এটি মূলত মূল্য নির্ধারণে নীতিগত সমন্বয়ের ফল। সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক তুলনায় ডিজেলের দাম কম থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব বহুমুখী। ভর্তুকি কমানো এবং বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে মূল্য সমন্বয় করা হলেও এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

