চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে সারচার্জ ৮.৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা।
গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত থেকেই নতুন এ চার্জ কার্যকর হয়। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় সোমবার চিঠির মাধ্যমে।
নতুন চার্জ আরোপের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত ২১টি বেসরকারি ডিপো ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হবে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এতে বাণিজ্য খরচ বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক ব্যবসা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষ করে রপ্তানি খাত, যা মূলত ডিপো নির্ভর, সেখানে চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের ধারণা, এতে তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে বিকডার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিজেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। সেই ব্যয় সামাল দিতেই ফুয়েল সারচার্জ সমন্বয় করতে হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে মোট ২১টি বেসরকারি ডিপো রয়েছে। এগুলোর সবকটিতে আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং ১৯টি ডিপোতে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দেশের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ এবং ৬৮ ধরনের আমদানি পণ্য এসব ডিপোর মাধ্যমে হ্যান্ডলিং করা হয়।
প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ লাখ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং সাড়ে ৭ লাখ টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার এসব ডিপোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিকডার একজন প্রতিনিধি রুহুল আমিন শিকদার জানান, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ব্যবহৃত ক্রেনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জ্বালানি তেলে চলে। পাশাপাশি বন্দরে কনটেইনার পরিবহনকারী যানবাহনও তেলনির্ভর। ফলে সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর মতে, আরোপিত সারচার্জ তুলনামূলকভাবে কমই রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাতের নেতারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত শিল্প খাতে চাপ বাড়াবে। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, গত এক বছরে এটি দ্বিতীয় দফায় চার্জ বৃদ্ধি।
তিনি আরও জানান, দেশে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩৫০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এছাড়া গত সাত মাসে এ খাতে রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে নতুন চার্জ আরোপ হলে রপ্তানি ব্যয় আরও বাড়বে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
রপ্তানি প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, পণ্য প্রথমে ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানে করে বেসরকারি ডিপোতে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে কনটেইনারে লোড করে ডিপোর ব্যবস্থাপনায় বন্দরে পাঠানো হয়।
একইভাবে আমদানি কনটেইনার ও খালি কনটেইনারও ডিপোর মাধ্যমে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়। ফলে বন্দরকেন্দ্রিক পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে এই বেসরকারি ডিপোগুলো।

