উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করহার বাড়ানো হলে পুঁজি পাচার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর সভাপতি কামরান টি রহমান। তাঁর মতে, অতিরিক্ত কর সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও কমিয়ে দিতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা এবং কর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। কামরান টি রহমান বলেন, দেশে কর শনাক্ত নম্বরধারীর সংখ্যা এক কোটির বেশি হলেও নিয়মিত রিটার্ন জমা দিচ্ছে এর অর্ধেকেরও কম মানুষ। তাঁর মতে, করহার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও করজাল সম্প্রসারণ করলে রাজস্ব আয় আরও কার্যকরভাবে বাড়ানো সম্ভব।
এমসিসিআইয়ের আরেক পরিচালক করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান হার বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ন্যূনতম কর ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নেরও আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে কর অবকাশ ও সহজ করনীতি চালুর দাবি ওঠে। তারা বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত কয়েক বছরের কর ছাড় দেওয়া হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও গতিশীল হবে।
সভায় উপস্থিত কর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামো চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এতে তাদের আলাদা জটিল রিটার্ন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রাজস্ব নীতি নির্ধারণে করহার বাড়ানো বা কমানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় করনীতি বিনিয়োগ ও পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

