দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে ২১ দফা প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম। সংগঠনটি মনে করছে, শুধুমাত্র মুদ্রানীতি বা সরকারি ব্যয় সংকোচন দিয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; এর জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
শনিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে আগামী অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অর্থ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
ইআরএফের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ডিলার থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত লাভের সীমা নির্ধারণ ও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটি আরও বলেছে, সরকারের পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। তাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রস্তাবে। এজন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং কর নেট সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটাল সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার প্রসার, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর কথাও বলা হয়।
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার জন্য নীতিগত সহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তাবগুলোতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বাজেট আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।
সিভি/কেএইচ

