দেশের তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে সরকারের কাছে একগুচ্ছ কর ও নীতি সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানিতে উৎস কর কমানো, নগদ প্রণোদনার ওপর কর প্রত্যাহার এবং সোলার প্যানেল ও মানসম্মত কৃত্রিম তন্তু ভিত্তিক পোশাক শিল্পে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি রয়েছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বস্ত্র, পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের নেতারা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) লিখিত প্রস্তাবে জানায়, গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবই শিল্পে ধীরগতির মূল কারণ। পাশাপাশি নীতি অনিশ্চয়তা, প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সমস্যা, অর্থায়ন ও লজিস্টিক ব্যয়ের বৃদ্ধি খাতটিকে চাপে ফেলেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রপ্তানির ওপর উৎস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে উৎসে কর আরোপের কারণে “দ্বৈত করের” শিকার হতে হচ্ছে, যা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল করপোরেট কর ১৫ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ এবং দেশীয় সুতা বিক্রির পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৩ টাকা কর পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তন্তু (মানবসৃষ্ট ফাইবার) ভিত্তিক পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো মূলত তুলা নির্ভর উৎপাদনের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তাই এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সহায়তা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সোলার প্যানেল, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সিস্টেম ও সুরক্ষা সরঞ্জামকে মূলধনী যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এসব পণ্যের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনারও দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও খরচ কমাতে সোলার সিস্টেম আমদানির বাধা দূর করার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সোহেল কর ও ভ্যাট কমানোর দাবি না জানিয়ে বলেন, কর ও কাস্টমস বিভাগে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা কর বা ভ্যাট কমানোর দাবি করছি না, সরকার যে হার নির্ধারণ করবে তা-ই দিতে প্রস্তুত আছি।”
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যে ভ্যাট ফাঁকি রোধে কিউআর কোড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তামাক পণ্য দিয়ে এটি শুরু হবে, পরে সাবান, শ্যাম্পু, বোতলজাত পানি ও মিষ্টিজাতীয় পণ্যে ধাপে ধাপে চালু করা হবে। তিনি আরও জানান, কর ফাঁকির তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশন, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
সিভি/এম

