দেশের স্টিল বা রড শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মুনাফা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে বলে দাবি করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই শিল্প বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছরে গড়ে প্রতি ৯০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েকশ টাকায়। তাদের হিসাবে, সাধারণ আয়কর পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৬৭৯ টাকা হলেও অগ্রিম কর পরিশোধ করলে তা লোকসানে পরিণত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিকে শিল্প টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, উৎসে কর হ্রাস এবং টার্নওভার ট্যাক্স অর্ধেকে নামানো জরুরি।
রাজস্ব বোর্ডে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় শিল্প সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রড উৎপাদন একটি দীর্ঘ ও মূলধননির্ভর প্রক্রিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট একসঙ্গে শিল্পটিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধীরগতি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিরতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা।
এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ায় চলতি মূলধনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, এসব কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে দাম সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাভের হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দেখা দিচ্ছে। তাদের প্রস্তাবে কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, রড বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানো এবং টার্নওভার ট্যাক্স অর্ধেক করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ও বিভিন্ন শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণ খাতনির্ভর এই শিল্প দীর্ঘমেয়াদে চাপের মধ্যে থাকলে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি সহায়তা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

