মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আমদানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে নতুন কৌশল নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উন্মুক্ত টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এই প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রচলিত চুক্তিভিত্তিক আমদানির পাশাপাশি নতুন উৎসও খোঁজা হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থায় শর্ত কিছুটা শিথিল করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক যেকোনো যোগ্য সরবরাহকারী অংশ নিতে পারে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও পরিস্থিতি ঝুঁকিমুক্ত নয়। চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে একাধিক তেলবাহী জাহাজ নোঙর করায় আপাতত এক মাসের মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ের জ্বালানি চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
চলমান পরিস্থিতিতে প্রায় আড়াই লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একাধিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান করছে। আরও একটি জাহাজ দেশের জলসীমার কাছে রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে দ্রুত তেল খালাসের কাজ চলছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে সীমিত সংখ্যক জাহাজ থেকে তেল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পূর্বনির্ধারিত চালান বাতিল বা পরিবর্তন করছে। এর ফলে হঠাৎ করেই একাধিক জাহাজ একসঙ্গে পৌঁছে গেছে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে।
বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এ দুটি জ্বালানিতে চাপ তুলনামূলক কম। তবে ডিজেল সরবরাহই এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়। সরকার এই জ্বালানির অন্তত ৯০ দিনের মজুদ নিশ্চিত করতে চায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যৎ আমদানির খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও একাধিক দেশকে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য কয়েকটি দেশকে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এতে শুধু আমদানি ব্যয় নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ কৌশল শক্তিশালী করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

